June 5, 2026, 4:55 am
শিরোনাম :
গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মানিত সদস্যদের মাঝে উপহার বিতরণ। কালিয়াকৈরে ভিজিএফের চাল  বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ “বিএসটিআই গাজীপুর কার্যালয় ও জেলা প্রশাসক গাজীপুরের উদ্যোগে গনসচেতনামূলক আলোচনা বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ ২০২৬ গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ শে মে বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস বিএসটিআই গাজীপুর কার্যালয়ের উদ্যোগে কালিয়াকৈর উপজেলা ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ এর উদযাপন, আয়োজনে প্রশাসন প্রেসক্লাব বকশীগঞ্জ গঠন : সভাপতি রনি, সম্পাদক মারুফ দিনাজপুরের বিরামপুরে জনগণের টাকায় দায়সারা কাজ! বেপারীটোলা গেন্দা বাজার সড়কে অনিয়মের অভিযোগ ‎নবীগঞ্জে ব্যাটারিচালিত মিশুকের ধাক্কায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু

কালিয়াকৈরে ভিজিএফের চাল  বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সরকারী ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, অসহায় হতদরিদ্র ও দুস্থদের চালেও নজর পড়েছে স্থানীয় আটাবহ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের। তারা ১০ কেজির মধ্যে ২ থেকে ৩ কেজি করে চাল কম দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অসহায় হতদরিদ্র ও দুস্থরা।
এলাকাবাসী, উপকারভোগী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৮ হাজার ৩৮৭ জনের জন্য ৮৩ দশমিক ৮৭০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আটাবহ ইউনিয়নের ৬৫৬ জনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ দশমিক ৫৬০ টন চাল। মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই ইউনিয়নের হিজলহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু আটাবহ ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অসহায় হতদরিদ্র ও দুস্থদের দেওয়া হয়েছে ৭ থেকে ৮ কেজি চাল। অসহায় হতদরিদ্র ও দুস্থদের চালে নজর দিয়েছেন ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা এবং উপজেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আমেনা খাতুন, ওই ইউনিয়ন তাতীলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল স্কেল মিটারে ওজন করে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। তবে বাস্তবে বালতিতে করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তারা সিন্ডিকেট করে ১০ কেজির মধ্যে ২ থেকে ৩ কেজি করে চাল কম দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অসহায় হতদরিদ্র ও দুস্থরা।
ভুক্তভোগী ৩নং ওয়ার্ড জালশুকা এলাকার মালতি বেগম বলেন, আমাদের যে চাল দেওয়া হচ্ছে সেটা বালতি দিয়ে মেপে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাইরে সেটা মেপে দেখি ২ থেকে ৩ কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে। চাল কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বলে সিলিপ নিয়ে আসে নাই। একারণে চাল কম দেওয়া হয়েছে। ২নং ওয়ার্ডের বড়ইছুটি এলাকার রোকেয়া বেগম বলেন, আমার চাল মেপে সাড়ে ৭ কেজি হয়েছে। বৎসরে দুই বার দুই ঈদে এই চাল দেওয়া হয়, তারপরও চাল কম দেওয়া হচ্ছে। জালশুকা এলাকার নাজমা বেগম বলেন, আমাদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়া কথা। কিন্তু আমি পাশের একটি দোকানে মেপে পাইলাম ৭ কেজি ২০০ গ্রাম। বড়ইছুটি এলাকার প্রতিবন্ধী সৈয়ন আলী বলেন, আমি প্রতিবন্ধী মানুষ। তারপরেও আমাকে ৭ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। শুধু তারা তিনজনই নন, উপকারভোগী অনেকেই জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ২-৩ কেজি করে চাল কম দিয়েছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অসহায় হতদরিদ্র ও দুস্থ লোকজন।
চাল বিতরণকালে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত থাকা ওই ইউনিয়ন তাতীলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, বালতি দিয়ে চাল মেপে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে চাল কম বেশি হতে পারে। তবে ইচ্ছা করে চাল কম দেওয়া হয়নি। অপর সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আমেনা খাতুন জানান, স্পটে চাল মেপে কম পাইলে সে দায়ভার আমি নিতাম। কিন্তু এর বাইরে বাড়িতে যদি চাল ভাজা খেতে দিয়ে তারা মাপেন, সেখানে চাল কম পড়লে তার দায়ভার আমরা নিবো কেন? পরে আপনার সাথে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন শাকিল মোল্লা জানান, আমি চাল বিতরণের সময় ছিলাম না। ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব দিয়ে জরুরি দরকারে আমি কোর্টে গিয়েছিলাম। তাই চাল কম দেওয়ার কথা আমার জানা নেই।
আটাবহ ইউপিতে চাল বিতরণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী আমজাদ হোসেন জানান, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বলেছি, চাল যা দেওয়ার কথা তাই দিবেন। কিন্তু তারা (চেয়ারম্যান-মেম্বাররা) বলছেন, বস্তায় চাল কম থাকে। তখন আমি তাদের বলেছি, আপনারা সেটা বুঝে আনেন নাই কেন? চাল কম দেওয়ার বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা কয়েক জায়গায় চাল বিতরণ করেছেন। এজন্য ঠিকমতো খেয়াল করতে পারি নাই। তবে শেষে পাঁচ কার্ডের চাল কম পড়েছিল। তাদের চাল দেওয়া হয়েছিল নাকি? তা আমি জানি না।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাকারিয়া আলম জানান, ওজনে চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাল কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নাই।