গণঅধিকার পার্টি পিআরপি কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বৃটিশ সরকারের তৈরি আইন ও বিচার ব্যাবস্থা বাতিল করে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগোপযোগী আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার ব্যাবস্থা বাস্তবায়নের দাবিতে মানব বন্ধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দূর্নীতিবাজদের আতঙ্ক, ন্যায়ের প্রতীক, বিপ্লবী জননেতা সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার, চেয়ারম্যান, গণঅধিকার পার্টি পিআরপি, বলেন আমাদের দেশের বিচার ব্যাবস্থা অচল এবং বিচারপতি গণ অথর্ব, ব্যক্তিত্বহীন ও সুবিধাবাদি। আপনারা দেখেছেন আওয়ামীলীগের সময় করা মামলাই ড, ইউনুস এর জেল খাটতেই হত কোনো আইন তাকে রক্ষা করতে পারত না। কিন্তু উনি যখন ক্ষমতার মসনদে বসলেন তখন ঐ বিচার বিভাগ আছে ঐ বিচারকগণ আছে, ঐ আদালত এক ঘণ্টার মধ্যে ড, ইউনুসের সব মামলা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন বলে খারিজ হল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যদি সেই সময় দেশের মাটিতে পা রাখতেন তার ফাঁসি অনিবার্য কোনা আইন উনাকে রক্ষা করতে পারত না। কিন্তু উনি ক্ষমতার মসনদে বসার সাথে সাথে ঐ বিচার বিভাগ আছে, ঐ বিচারক আছে তার সব মামলা মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন হয়েগেল। এখন আপনারাই বলেন এই ব্যক্তিত্বহীন বিচারকের কাছে কি আসা করা যায।আমি বলতে চাই তারা নির্দোষ হোক আমার আপত্তি নাই কিন্তু সেটা আইনি প্রক্রিয়ায় নয় কেনো?
গণঅধিকার পার্টি’র চেয়ারম্যান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ত্রয়োদশ নির্বাচিত সরকারের জাতীয় সংসদের প্রথম ১০০ দিনে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন হয়েছে ৩৪৯৬ জন, অপহরণ হয়েছে ১৯৬ জন খুন হয়েছে ৬০৫ জন।আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ততথ্যানুসারেঃ গত পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত শুধু মাত্র শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৮ জন। ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে।ধর্ষণের শিকার দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে।এছাড়া, বিভিন্ন ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১৫ শিশু খুন হয়েছে।চুয়াডাঙ্গা, দামুরহুদা ৭১ বছর বয়সের বৃদ্ধাও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদেশে সাধারণ নাগরিক, ছেলে শিশু, মেয়ে শিশু এবং ৮০ বছরের বৃদ্ধাসহ আমরা কেহই নিরাপদ নই। অনেকেই সরাসরি সরকারকে দায়ী করছেন, আসলে সরকার কাউকে নির্যাতন করতে বলেনি, অপহরণ করতে বলেনি, বলাৎকার করতে বলেনি, শিশু ধর্ষণ করতে বলেনি, শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করতে বলেনি। বিশ্বের চরিত্রহীন নিকৃষ্ট সরকারও চায়না তার দেশে ছেলে শিশু বলাৎকার হোক, মেয়ে শিশু ধর্ষণের পর হত্যা হোক, ৮০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষিতা হোক, তবে ভারতের উগ্রবাদী বিজিবি সরকার চায় এটা জলন্ত উদাহরণ হতে পারে কিন্তু আমরা তাদের কথা বলবো না কারণ তাদের দেশ আলাদা, আমাদের দেশ আলাদা তাদের রাষ্ট্র নীতি আলাদা আমাদের রাষ্ট্র নীতি আলাদা তাই আমরা আইনগত ভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারিনা। ছেলে শিশু বলাতকার হোক, মেয়ে শিশু ধর্ষণ হোক, ৮০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষিতা হোক এটা সরকার চায়না, প্রশাসন চায়না এবং জণগণও চায়না তাহলে এই নিকৃষ্টতম ঘটনা কেন ঘটছে। এর মূল কারণ হলোঃ স্বৈরাচার বৃটিশ সরকারের তৈরি মানহী, অকার্যকর এবং দূর্বল বিচার ব্যাবস্থা। আমাদের দেশের বিচারিক আইন তৈরি করেছিল সেই সময়ের দুর্নীতিবাজ, ধর্ষক, খুনি এবং স্বৈরাচার বৃটিশ সরকার।যেহেতু তারা দূর্নীতি, খুন, ধর্ষণ এক কথায় সকল প্রকার অপরাধ করতো। তারা জনগণকে বোকা বানিয়ে আইনের ফাঁকে তারা নির্দোষ হয়ার জন্য এই আইন তৈরি করেছিল।
দ্বিতীয় কারণঃ দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তির বিস্তার, বিকৃত অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা, পরিবারি ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যাবস্থার ঘাটতি এবং নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয়।
তৃতীয়তঃ শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত ও ব্যায়বহুল এবং অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা।
এদেশে সাধারণ নাগরিক ছেলে শিশু, মেয়ে শিশু এবং ৮০ বছরের বৃদ্ধাসহ আমরা কেহই স্বাধীন এবং নিরাপদ নয়। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দূর্নীতিবাজ, ধর্ষণকারী এবং হত্যাকারী তারা সম্পূর্ণরুপে স্বাধীন এবং আমরা সাধারণ মানব জাতি তাদের কাছে জিম্মি যা দেখার আগেও কেউ ছিল না এখনো কেউ নাই।
এদেশে লক্ষ লক্ষ রাজনীতিবিদ আছে কিন্তু রাজনীতি নাই। এদেশে কোর্ট কাচারি আদালত হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্ট আছে, লক্ষ লক্ষ আইনজীবী, ব্যারিস্টার, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিচারপতি আছে কিন্তু ন্যায় বিচার নাই। তবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় খুব দ্রুত হয়েছে, ফাঁসির অর্ডার হয়েছে রায় শুনে জনগণ খুশি হয়েছে। বৃটিশের তৈরি আইন অনুযায়ী যে রায় হয়েছে সেই রায়ের প্রতি আমার আস্থা নাই।কারণ আপনারা যারা পেপার পড়েন তারা ১০জুন প্রথম আলোতে দেখেছেন নারী ও শিশু নির্যাতনের আসামী ২৭৩ জনের ফাঁসির রায় হয়েছে।রায়ের পর ৮/১০ বছর ধরে তারা জেলে আছে।রামিসার বিচারের রায় হলেই যে কার্যকর হবে তার গ্যারান্টি নাই আপিল করে জামিন পেতেও পারে এজন্য মানুষের তৈরি আইনের প্রতি আমার আস্থা নাই।
আল্লাহ-তায়ালা বলেছেনঃ যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দিয়ে বিচার করেনা তারা কাফের।(সুরা আল মায়েদা, আয়াত -৪৪) আমারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার করি এবং বিচার মানি তাহলে আমরা মুসলমান এটা স্পষ্ট কথা।আর যদি আমরা মানুষের তৈরি আইন দিয়ে বিচার করি তাহলে আমরা কাফের এটাও স্পষ্ট কথা। মুসলমান হিসেবে জন্ম গ্রহণ করা সৌভাগ্যের বিষয়, শুধু মানুষের তৈরি আইন মেনে নিয়ে নিজের জন্ম বৃথা করতে পারিনা।
আল্লাহ তায়ালা আরোও বলেনঃ যে ব্যাক্তি রাসুলের আনুগত্য করে, সে আল্লাহর আনুগত্য করে।আর যে ব্যাক্তি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের উপর আমি তোমাকে রক্ষক হিসেবে প্রেরণ করিনি।(সুরা নিসা, আয়াতঃ৮০) এখন আমরা রাসুলের অনুগত্য করব কি-না প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার।
আল্লাহ-তায়ালার আদেশ নিষেধ কিছু মানব কিছু মানবন না, ইসলামে সে সুযোগ নাই। আল্লাহ তায়ালার কাছে সম্পূর্ণরুপে আত্মসমর্পণ করে আল্লাহর সকল আদেশ নিষেধ মেনে চলাই হলো মুসলিম হওয়ার মূল শর্ত।
দুর্নীতিবাজ, খুনি ধর্ষক ও স্বৈরাচার বৃটিশ সরকারের তৈরি আইন এবং বিচার ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ধর্ষক এবং হত্যাকারীর বিচার জনসম্মুখে করার জোর দাবি করছি। উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) মোঃ আলমগীর, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি – ডিএমপি, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুক্তি পার্টি, মোঃ রবিউল আওয়াল, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ একুশে পার্টি, মোঃ আবুল হাসেম, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সর্বজনীন জোট, মোঃ সাব্বির খান, ভাইস চেয়ারম্যান, গণঅধিকার পার্টি, হাজি মোঃ তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব গণঅধিকার পার্টি পিআরপি, মোঃ মোবারক হোসেন যুগ্ম সাংগঠনিক পরিশেষে সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের মত এখানে সমাপ্তি ঘোষণা করছি, সবাই ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার
চেয়ারম্যান
গণঅধিকার পার্টি পিআরপি