বগুড়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২রা মার্চ) দুপুরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এ- সময় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনটিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এটি শূন্য হয় এবং বর্তমানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিনে বগুড়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা তার সমর্থকদের নিয়ে জেলা নির্বাচন অফিসে প্রবেশ করেন। এ-সময় অপর এক সম্ভাব্য প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সরাসরি হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।
অফিস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ এমন মারমুখী অবস্থানে সাধারণ মানুষ ও নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি চলার পর উপস্থিত সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ- বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপ-নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে অফিসের স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রমে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক উপস্থিতিতে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে দলীয় নেতাদের এমন আচরণে বগুড়া জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা এই ঘটনাকে দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছেন