শ্রীপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বদলি করা হয়েছে—যা নিঃসন্দেহে একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ; তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শুধুমাত্র বদলি কোনোভাবেই শাস্তির পর্যায়ে পড়ে না। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, আসাদুজ্জামান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে খাদ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গাজীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু প্রথম দফায় গঠিত ওই তদন্ত কমিটি এলাকায় এসে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রমের পরিবর্তে ভুরিভোজে ব্যস্ত সময় পার করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা তড়িঘড়ি স্থান ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা অফলাইন, অনলাইন বা সরাসরি—কোনো মাধ্যমেই কথা বলতে রাজি হননি।
পরে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও পূর্বের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় তদন্ত কমিটিও সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে সম্মত হননি। স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে—মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শুধু আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া নন—তার ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও অসৎ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। খাদ্য বিভাগের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ বাণিজ্য বা সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণে অসঙ্গতির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
তাই জনগণের স্বার্থে ও রাষ্ট্রের সম্পদের সুরক্ষায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করে প্রমাণ সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।